কতো কোটির বিনিময়ে কেডি সিং তৃণমূলের সাংসদ হয়েছিলেন? ফাঁস করলেন মহম্মদ সেলিম
দি নিউজ লায়ন ; কেডি সিংকে নিয়ে এবার রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি কেন্দ্রের শাসক বিজেপিকে নিশানা করলেন সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মহঃ সেলিম। সিপিএম নেতা মহঃ সেলিম অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস টাকার বিনিময়ে কেডি সিংকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল। রাজ্যসভার সাংসদ হতে কেডি সিং প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন সেলিম। বাংলার মানুষ কেডি সিং-এর কাছ থেকে কোনও উপকার পায়নি বলেও দাবি করেছেন মহঃ সেলিম।
তৃণমূলের সাংসদ পরিচয়ে টাকা লুটের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যাতে তার পাশে দাঁড়ায় সেই চেষ্টা করে গিয়েছিলেন কেডি, অভিযোগ সেলিমের। রাজ্যে অ্যালকেমিস্ট প্রতারণা করলেও তৃণমূল সরকারের দৌলতেই কোনও এফআইআর নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। তৃণমূলের তরফে কেডি সিংকে উত্তর ভারতে দলের বিস্তারের কাজেও লাগানো হয়েছিল। সেই সূত্রে ছাপানো গেঞ্জিতে কেডি সিং-এর পাশাপাশা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল বলে দাবি করেছেন মহঃ সেলিম।
সেলিম কুণাল ঘোষকে মিডিলম্যান বলেও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, চিটফান্ড, অ্যালকেমিস্ট নিয়ে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করলেও কোনও অদৃশ্য কারণে সেই খবর সম্প্রচার করেনি কোনও মিডিয়াই। সেলিম বলেন, স্বর্গীয় অরুণ জেটলি অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন একবার বাজেটের দিন লাঞ্চ স্পনসর করেছিল কেডি সিং-এর সংস্থা অ্যালকেমিস্ট। যা নিয়ে তিনি অরুণ জেটলিকে চিঠি লিখেছিলেন বলেও জানিয়েছেন। কেডি সিং-এর সংস্থাকে নিয়ে তিনি সেবি, ইডি, সিবিআই এবং মিনিস্ট্রি অফ কোম্পানি অ্যাফেসার্সেও চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু কেউই কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সেই সময় অফিসারদের বদলি করা ছাড়া কোনও কাজ করা হয়নি। এক্ষেত্রে মোদী সরকারের পদক্ষেপ ছিল বর্তমান তৃণমূল সরকারের মতো।
আর্থিক দুর্নীতিতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই বলে দাবি করেন তিনি। সেই সময় কেডি সিং-এর তরফে তাঁর কাছে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন সেলিম। এব্যাপারে এক তৃণমূল সাংসদ তাঁকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
১৩ জানুয়ারি ইডি গ্রেফতার করে কেডি সিংকে। ২০১৯ সাল থেকে একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে। অ্যালকেমিস্ট গ্রুপ এবং হাউসিং সোসাইটির মাধ্যমে তিনি আর্থিক প্রতারণ করেছিলেন বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য ২০১২ সাল পর্যটন্ত তিনি অ্যালকেমিস্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। অ্যালকেমিস্ট গ্রুপ চিটফান্ডের নামে প্রায় ১৯০০ কোটি টাকা প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ। ২০১৯-এর জানুয়ারিতে তাঁর ২৩৯ কোটি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি তৃণমূলের তরফে সাংসদ ছিলেন।

Post a Comment